Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

শিরোনাম
তুলা চাষে স্বাবলম্বী চাষিরা
বিস্তারিত

তুলা চাষে স্বাবলম্বী চাষিরা


তুলা চাষে স্বাবলম্বী চাষিরা


পার্বত্য জেলা বান্দরবানে একসময় যেসব জমিতে তামাকের চাষ হতো এখন সেই জমিতেই চাষ হচ্ছে তুলা। পাহাড়ে জুম চাষের পাশাপাশি দেশীয় হাইব্রিড তুলার ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের জীবনে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা। তুলা উন্নয়ন বোর্ড বলছে, এবছর বান্দরবানে ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ হয়েছে আর তার বিপরীতে উৎপাদন হতে পারে ১০৯২ টন তুলা। গবেষকরা বলছেন, উন্নত জাতের তুলা চাষের সঠিক পরিচর্যা করা গেলে উৎপাদন বাড়বে আরো কয়েকগুণ।

জেলার মেঘলা, চিম্বুক, চড়ুইপাড়া, লেমুঝিড়ি, বালাঘাটা জয় মোহন পাড়াসহ বিভিন্ন পাড়ায় চলছে এই তুলার চাষ। বান্দরবানের ৭টি উপজেলার বিভিন্ন জমি থেকে এখন তুলা উত্তোলন শুরু করে দিয়েছে চাষিরা, জুম চাষিরা দেশি তুলার পাশাপাশি হাইব্রিড তুলা চাষে ফলন ভালো পাওয়ায় লাভবান হচ্ছে আর্থিকভাবে। বান্দরবান সদরের জয়মোহন পাড়ার তুলা চাষি নিহার বিন্দু চাকমা বলেন আমি আমার ৩৩ শতক জমিতে তুলার আবাদ করেছি এবং এবছর ফলন হয়েছে বেশ ভালো। তুলা চাষ অন্যান্য ফসলের চাইতে অনেক সহজ এবং ফলন ভালো হওয়ায় বিক্রি করে দাম ও ভালো পাওয়া যায়। মংপ্রুছড়ার তুলা চাষি ম্রাইচিং মার্মা জানান, একসময় আমাদের পাড়ায় শুধু আমরা স্বামী স্ত্রী তুলা চাষ করতাম, কিন্তু ফলন বেশি, বিক্রি করে লাভ ও ভালো পাওয়ায় এখন অন্যান্যরা তুলা চাষ শুরু করছে। তুলা চাষ করে আমাদের পরিবার ভালোই চলছে। বান্দরবান সদরের বালাঘাটার তুলা চাষি অং মে জানান, আমাদের এলাকার মাটি ভালো, তাই আমরা তুলা চাষ করি, আগামীতে ও আমরা আরো বেশি তুলা চাষ করব। তুলা চাষি অং মে আরো জানান, তুলা উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান জোন কার্যালয় থেকে আমাদের নানাবিধ সহায়তা করে আর আমরা তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ পেয়ে দেশি তুলার পাশাপাশি হাইব্রিড তুলার চাষ সর্ম্পকে বিশদ জানতে পারছি।

তুলা উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলমগীর হোসেন মিধা বলেন, বান্দরবানে প্রায় সাড়ে ৪হাজার চাষি বিভিন্ন সময় তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রশিক্ষণ নিয়ে তুলা উৎপাদন করছে, প্রশিক্ষণে চাষিদেরকে তুলা উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ওপর ব্যাপক ধারণা দেয়া হচ্ছে। একসময় চাষিরা পাহাড়ে শুধু তামাক চাষ করে জীবনধারণ করলে ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন তুলা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় অনেক চাষিই তুলা চাষ করছে। কৃষিবিদ মো. আলমগীর হোসেন মৃধা আরো বলেন, তুলা একটি অর্থকরী ফসল আর এই তুলার পাশাপাশি কৃষকরা সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন শাকসবজি রোপণ করে ভালো ফলন পায় এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তুলা উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলমগীর হোসেন মৃধা আরো বলেন, গতবছর বান্দরবানে বীজ তুলার দাম ছিল মণপ্রতি ৩৬০০টাকা আর এ বছর তা বেড়ে মণ প্রতি ৩৮০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এদিকে তুলার মান উন্নয়নে বান্দরবানের পাহাড়ি তুলা গবেষণা কেন্দ্রে বিভিন্ন জাতের তুলার গবেষণা চলমান।


পাহাড়ি তুলা গবেষণা কেন্দ্র বান্দরবানের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অফিস প্রধান মংসানু মার্মা বলেন, বান্দরবান পাহাড়ি তুলা গবেষণা কেন্দ্রে বর্তমানে এইচসি ১, ২, ৩ এবং সিবি ১২, ১৩, ১৪, ১৫, সিবি হাইব্রিড-১ এবং টার্কি থেকে ১২টি জাতের তুলার গবেষণা চলছে। সঠিকভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করা গেলে প্রচুর তুলা উৎপাদন হবে। সেই তুলা বিক্রি করে চাষিরা অধিক লাভবান হবে।


তুলা উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান জোনের তথ্যমতে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে বান্দরবানে ৫হাজার হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ হয়েছে আর তার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১০০১ টন আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে বান্দরবানে ৫৫০০ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ হয়েছে আর যার বিপরীতে ১০৯২ টন তুলা উৎপাদনের আশাবাদ রয়েছে।

ছবি
ডাউনলোড
প্রকাশের তারিখ
29/07/2023
আর্কাইভ তারিখ
31/07/2024